ব্যবসা করার জন্য লাগে মূলধন। কিন্তু এর থেকে ও বেশি লাগবে সময় আর সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত। একটা ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাকে সময়ের সাথে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যাতে আপনি সহজে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

অল্প পুঁজিতে ১০ টি লাভজনক গ্রামের ব্যবসা আইডিয়া
অল্প পুঁজিতে ১০ টি লাভজনক গ্রামের ব্যবসা আইডিয়া 


 শহরে ব্যবসা করতে গেলে আপনার অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। কিন্তু গ্রামের ব্যবসা করতে গেলে অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করা যায়। নিচে গ্রামের ১০ টি লাভজনক ব্যবসা আইডিয়া দেওয়া হলো আশা করি পুরোটা পারবেন।

১. ঔষধের দোকান বা ফার্মেসি ব্যবসা

বড় হোক বা ছোট সুস্থ থাকার জন্য ঔষধ সব মানুষের প্রয়োজন হয়।  আপনি অল্প পুঁজিতে এই ব্যবসা শুরু করে পারেন। শহর হোক বা গ্রাম ঔষধের চাহিদা কেমন তা বলা লাগবে না। ফার্মেসি দোকান দেওয়ার আগে আপনাকে কিছু নিয়ম কারন মানতে হবে। 

ফার্মেসি দেওয়ার আগে আপনাকে 'বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তারপর সেখান থেকে আপনাক একটা ড্রাগ লাইসেন্স দেওয়া হবে। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে সেটি অবৈধ হবে এবং আপনি শাস্তি ও পেতে পারেন। 


২. জামা কাপড়ে ব্যবসা 

জামা কাপড় আমাদের নৃত্য দিনের পণ্য। এইটি কম বেশি সবার প্রয়োজন হয়। এই চাহিদা অতীতে ছিল বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতে ও থাকবে। সময়ে সাথে কাপড়ের মান ডিজাইন আধুনিক হয়েছে। আপনি চাইলে গ্রামে এই ব্যবসা অল্প পুঁজিতে শুরু করতে পারেন। 

আপনি কাপড়ের ব্যবসা শুরু করার আগে প্রথমে আপনাকে সঠিক জায়গায় নির্বাচন করতে হবে। এমন জায়গায় যেখানে মানুষ জনের আনা গুনা বেশি থাকে। অথবা আপনি জামা কাপড় নিয়ে এসে অন্য দোকানি কাছে পাইকারি বিক্রি করতে পারবেন। 

আপনি গ্রামে বসো ও অনলাইনে জামা কাপড়ের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই জন্য আপনার দরকার একটি ই-কমার্স ওয়েব, একটি ইউটিউব চ্যানেল এবং একটি ফেসবুক পেজ। এতে আপনি সহজে ঘরে বসে অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করতে পারবেন 

৩. হাঁস মুরগি খামার 

আপনি হাঁস মুরগি খামার দিতে পারেন। গ্রামের একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। এত আপনার লাভ হবে এবং গ্রামে বেকারত্ব কমবে। শুরুতে অল্প টাকা দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করবেন। পরে যখন লাভ হবে আস্তে আস্তে খামার বড় করতে পারবেন। খামার শুরু করার আগে আপনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে এতে আপনার ব্যবসা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। অথবা অভিজ্ঞ কারো কাজ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। 

৪. মাছ চাষ 

গ্রামের লাভজনক ব্যবসার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাছ চাষ করা। মাছ চাষ করে আপনি সহজে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। আপনার কাছে যদি পুকুর থাকে তাহলে মাছ চাষ শুরু করে দিতে পারেন। আর যদি না ও থাকে তাহলে কোন সমস্যা নেই অন্যর পুকুর লিস্ট নিয়ে তাতে চাষ করতে পারবেন। 

মাছ চাষ করার আরেকটা উপায় হচ্ছে বায়োফ্লক। বায়োফ্লক সাহায্য আপনি বাড়ির উঠানে মাছ চাষ করতে পারবেন। অল্প জায়গায় মধ্যে বেশি পরিমানে মাছ চাষ করতে পারেন। বায়োফ্লকে মাছ চাষ করার আগে আপনাকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে হবে। 

৫. পাইকারি সবজি ব্যবসা 

আপনি গ্রাম থেকে থেকে কাঁচা সবজি সংগ্রহ করে তা শহরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে পারেন। আপনি অল্প টাকায় সবজি কিনে শহরে নিয়ে দিয়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনকে প্রথমে সবজি ক্রয় করার সময় লাভ করতে হবে। আপনি চাইলে সবজি হাট থেকে কিনতে পারেন। অথবা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কিনতে পারেন। আপনি সবজি ওজনে না ক্রয় করে ঠিকা হিসেবে কিনুন এত লাভ বেশি হবে। 

৬. মোবাইল রিপেয়ারিং ব্যবসা 

অল্প টাকা বিনিয়োগ করে বেশি টাকা লাভ করতে চান তাহলে মোবাইল রিপেয়ারিং ব্যবসা আপনার জন্য। বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। বেশির ভাগ মানুষ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। সেই স্মার্ট ফোনে কিছু মাস পর কোনো না কোনো সমস্যা দেখা দেয়। 

আপনি যদি মোবাইল রিপেয়ারিং ভালো কাজ করতে পারেন। তাহলে এর থেকে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি ভালো সার্ভিস দিতে পারেন তাহলে আপনি কাস্টমার খুঁজতে হবে না কাস্টমার আপনাকে খুঁজে নিবে। মোবাইল রিপেয়ারিং পাশাপাশি আপনি মোবাইলের যন্ত্র আংশ বিক্রি করতে পারেন। এর পাশাপাশি আপনি মোবাইল রিচার্জের ব্যবসা ও শুরু করতে পারবেন। 

৭. ইট বালি সিমেন্ট ব্যবসা 

শহরের মতো গ্রামের ও আস্তে আস্তে নগর আয়ন ছোঁয়া লাগছে। ইট বালি ব্যবসা অনেক লাভজনক ব্যবসা। এই ব্যবসা পুঁজি একটু বেশি লাগে। যখন ইট বালির দাম কম থাকে তখন আপনি সরাসরি যারা ইট উৎপাদন করে তাদের থেকে নিয়ে আসবেন। 

পরে আপনি তা সাধারণ ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারবেন। এই ব্যবসা করার জন্য আপনার কোন লাইসেন্স এর দরকার হবে না। আপনি চাইলে ইট বালির সাথে সিমেন্ট ও রট ও বিক্রি করতে পারবেন। 


৮. বই খাতা বিক্রি ব্যবসা 

বই আমাদের প্রকৃত বন্ধু। আপনি কোন অভিজ্ঞতা ছাড়া বই খাতা ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই জন্য আপনার একটি দোকানে দরকার হবে। এবং আপনাকে সঠিক জায়গায় বেঁচে দোকান দিতে হবে। দোকান দেওয়ার সবচেয়ে ভালো জায়গায় হচ্ছে স্কুলের পাশে।

 কারণ সব থেকে বেশি বই খাতা কিনে ছাত্র ছাত্রীরা। বই মধ্যে রাখবেন, বিভিন্ন গল্পের বই, উপন্যাস, নাটকের বই, গানের বই, তবে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী রাখা টা ভালো হবে। আপনি চাইলে বিভিন্ন রকম বই অনলাইনে ও বিক্রি করতে পারেন। এর জন্য আপনার কোন দোকানে প্রয়োজন হবে না। আপনি সরাসরি কারখানা থেকে বই খাতা নিয়ে আসবেন এত আপনার ইনকাম ভালো হবে। 

৯. পুতি দিয়ে পণ্য তৈরী ব্যবসা 

পুতি দিয়ে পণ্য তৈরি করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এটি আপনার জন্য লাভজনক ব্যবসা হতে পারে। আপনার সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে পুতি দিয়ে নানা রকম জিনিস তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন। আপনি যদি তৈরি করতে না পারেন তাহলে আপনার এলাকার মহিলাদের দিতে পারেন। 

কারণ ডিজাইন ক্ষেত্রে মেয়েদের সৃজনশীলতা ছেলেদে তুলনায় একটু বেশি। পুতি দিয়ে জিনিস তৈরি করার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে পুতি, রক সুতা, কাচি ইত্যাদি এছাড়া আপনার কি ধরনের পণ্য তৈরী করবেন যেই অনুযায়ী জিনিস দরকার হবে। আপনি দোকান দিয়ে পুতির পণ্য গুলো বিক্রি করতে পারবেন অথবা অনলাইনে ও বিক্রি করতে পারবেন। 

১০. জুতা তৈরি ব্যবসা 

জুতা আমাদের নৃত্য দিনের পণ্য। আপনি কাঁচা মাল নিয়ে এসে গ্রামের একটি ছোট পরিসরে কারখানা দিয়ে জুতা উৎপাদন শুরু করতে পারেন। আপনি চামড়া জুতা, প্লাস্টিকের জুতা, রাবারের জুতা ইত্যাদি তৈরি করতে পারেন। আপনি বিভিন্ন দোকানে পাইকারি দামে জুতা বিক্রি করে দিবেন। 

আরো পড়ুন :



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন