মানুষের চেহারার বিচারে চুলের স্থান সর্বাগ্রে। সুকুমার রায়কে বলতে পারি "চুলের আমি /চুলের তুমি / চুল দিয়ে যায় চেনা" কথাটা ছড়ায় যতটা, বাস্তবে একেবারে আক্ষরিক অর্থেও ততটাই সত্যি। হঠাৎ সিঁথি বদলালে কিংবা চুল কেটে বয়কাট করলে প্রথম নজরে চেনাই যায় না।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়ার উপায়
ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়ার উপায় 


 মুখের ছোট খাটো খুঁত ঢাকতে কিংবা মুখের গড়নের সৌন্দর্য বের করে আনতে চুলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একঘেয়ে জীবন একটু বৈচিত্র্যের ছোঁয়া আনতে চুলের কাট বদলে ফেলার বিকল্প নেই। একেবারে নতুন মেয়ে মনে হয়, পাশের চেনা মানুষরা কয়েকদিন কেমন অবাক অচেনা চোখে তাকিয়ে থাকে, দারুন লাগে নিজেকে। 

কিন্তু মাথায় চুল থাকলেই রাণী, কারিশমা, কারিনাদের মতো চুল বানিয়ে ফেলা যায় না। দরকার সঠিক চুলের ধরন, সঠিক পরিচর্যা এবং জানতে হবে চুলকে সুন্দর করার কৌশল

চুল কিভাবে জন্ম নেয় 

জন্ম, বৃদ্ধি ও মৃত্যু - জীবনের তিনটি পর্যায়। তেমনি চুলের ও বৃদ্ধি ও মৃত্যু। তবে চুল স্বাভাবিক নিয়মে ঝরে পড়লেও সেই জায়গা থেকে নতুন নতুন চুল গজায়। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারন রয়েছে।

ফলিকল 

আমাদের মাথায় অসংখ্য ছিদ্র রয়েছে। এই ছিদ্র গুলোকে বলে ফলিকল। এর থেকে প্রায় ১ লক্ষ চুলের উৎপাদন হয়। আমরা নানা ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য খাই। তার মধ্যে ভিটামিন ও প্রোটিন জাত খাদ্যের পুষ্টি চুলের জন্ম নিতে সাহায্য করে।

 ফলিকল সাধারণত ১১ - ১২ বছর বয়স থেকে পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করে। এর আগে অর্থাৎ সদ্যোজাত শিশু থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ফলিকল গুলোর আকৃতি ছোট থাকে। এই সময় মানুষের চুল পাতলা থাকে, ১২ বছর থেকে বয়ঃসন্ধিকাল কাল শুরু হয়। ফলে ফলিকলের আকৃতি বৃদ্ধি পায়। 

চুল কালো হয় ও বাড়তে থাকে। আবার ৪০ থেকে ৫০ বছরের পর থেকে ফলিকল গুলোর আকৃতি ছোট হতে থাকে। তাই বেশি বয়সে চুল ও পাতলা হয়ে যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ফলিকলের ওপরই চুলের আকৃতি নির্ভর করে। এর আকৃতি কিন্তু এক নয়। ফলিকল তিন ধরনের হয়।

 যথা গোলাকার, বাঁকা ও অতিরিক্ত বাঁকা, গোলাকার ফলিকলযুক্ত মাথা থেকে সাধারণত সোজা স্বাভাবিক ধরনের ঝিলঝিলে চুল উৎপন্ন হয়। সামান্য বাঁকা ফলিকল যুক্ত মাথা থেকে ঈষৎ বাঁকা চুল গজায়। অর্থাৎ এর চুল পুরোপুরি সোজা হয় না। 

ঢেউ খেলানো হয় চুল আর যাদের মাথার ফলিকল একেবারে আঁকাবাঁকা, তাদের চুল অতিরিক্ত কোঁকড়ানো গোছের হয়। ফলিকলের ঠিক নিচে তেলগ্রস্থি থেকে তেল মাথায় চুলের গোড়ায় যায়। এই তেলগ্রস্থি থেকে যদি বেশি পরিমানে তেল নির্গত হয়, তাহলে সেই চুল তৈলাক্ত হয়। যদি অল্প পরিমাণে তেল বের হয়, তাহলে সেই চুল হয় শুষ্ক। 

তাহলে বোঝা যাচ্ছে, ফলিকল গুলোই তেলগ্রস্থি থেকে তেল বের করে চুলকে তৈলাক্ত, কোমল এবং নমনীয় করে তোলে। 

প্যাপিলা 

ক্ষুদ্রতম কোষ বা চামড়ার একটি বর্ধিত অংশ বর্ধিত অংশ প্যাপিলা। এটি রক্ত সংবাহিত করতে সাহায্য করে। এর ফলে চুলের মধ্যে ও সেই পরিচর্যা বজায় থাকে। এই কোষেও চুলের জন্ম ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া আমরা জানি একটি চুল একটি একক ফাইবারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। 

চুলের শ্রেণি বিভাগ 

বাইরে থেকে বোঝা না গেলে ও প্রত্যেক মানুষের চুলের ধরনের বিচিত্র। চুল নিয়ে বিদশ ভাবে চর্চা করে দেখা যায়, চুলের সাধারণত তিন ধরনের হয়। যেমন 

  • তৈলাক্ত চুল (oily hair) 
  • শুকনো চুল (Dry hair) 
  • স্বাভাবিক চুল (Normal hair) 
চুল নিয়ে সমস্যায় ভোগেন নি এমন মানুষ বিরল। সংবাদপত্র বা বিভিন্ন সাময়িকীর রূপচর্চা বিভাগে, ছোট থেকে বড় প্রায় সকলেই চুলের সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। চুলের সমস্যা প্রধান কারন দূষিত পরিবেশ। এছাড়া অন্য কারন গুলো হলো 
১. পরিচর্যার অভাব। 
২. ঠিকঠাক পরিচর্যা করতে পারে না। 
৩. পারিপার্শ্বিক আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন। 

কিভাবে চুলের জৌলুস ফিরবে 

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিম্ন লিখিত উপায় গুলো গ্রহণ করুন। 

১. চুলের গোড়ায় তেল মালিশ করুন। প্রতি একদিন অন্তর চুলের গোড়ায় আঙুলের ডগায় তেল নিয়ে আস্তে আস্তে মালিশ করতে হবে। এর ফলে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ফলে উপকার হয় চুলের। 

২. সপ্তাহে অন্তত একদিন শ্যাম্পু করবেন। তবে যাদের চুলে অল্প সময়ের মধ্যে ময়লা বসে যায় তারা দুই থেকে তিন বার শ্যাম্পু করতে পারেন। শ্যাম্পু করার সময় মনে রাখবেন, চুলে ঘষাঘষি যেন বেশি না হয়। 

আস্তে আস্তে আঙুল ডগা দিয়ে ম্যাসাজের মতো শ্যাম্পু করুন। তাছাড়া যদি ঈষৎ উষ্ণ জলে মাথা ঘষেন তাতে চুলের ডগা কম ফাটবে। এছাড়া শ্যাম্পু করার পর মাথা ধোবেন ভালো করে । মনে রাখবেন সাবানের ফেনা মাথায় থেকে গেলে খুশকি হতে পারে। 

৩. শ্যাম্পু করার আগের দিন রাতে পুরো চুলে ভালো করে তেল লাগান। অথবা শ্যাম্পু অথবা শ্যাম্পু করার ঘন্টাখানেক আগে তেল লাগাতে পারেন। তারপর শ্যাম্পু করলে চুল হয় চকচকে, মসৃণ। 

৪. প্রতিদিন সকালে চুল খুলে শুকনো হাতে মাথার তালুতে মালিশ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে ও চুলের বৃদ্ধি ঘটবে। 

৫. চুলের প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ ব্রাশ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় ও চকচকে হয়। শ্যাম্পুর পরে চিরুনি সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে শেষে ডটল পানিতে ধুয়ে নিন ।

চুলের পুষ্টির জন্য খাবার 

 ডিম 

ডিম চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুল পড়া বন্ধ করে। চুলে রেয়েছে প্রচুর ভিটামিন। ডিম চাইলে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। 

ডাল 

ডালে রয়েছে আয়রন ও প্রোটিন। ডাল চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। আপনারা চাইলে ডাল প্রতিদিন খাবার মেনুতে ডাল রাখুন। 

পালং শাক 

পালংশাক আয়রনে ভরপুর। পালংশাক চুল লম্বা করতে সাহায্য করে। পালংশাক চুলে অক্সিজেন পৌঁছায়। 

ক্যাপসিকাম 

আমাদের চুল ভিটামিন সি অভাবে রুক্ষ হয়ে তারাতারি পড়ে যায়। ক্যাপসিকাম রয়েছে ভরপুর ভিটামিন সি। এই ভিটামিন সি আপনার চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। চুল পড়া রোধ করে। 

আরো পড়ুন 




Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন