ব্যায়ামের উপকারিতা
ব্যায়ামের উপকারিতা 


ব্যায়াম কী এবং কেন

যে কোনও ধরনের প্রয়োজনীয় নড়াচড়া বা মুভমেন্টকেই ব্যায়াম বলা হয়। সুস্থ, সবল ও নিরোগ দেহের অধিকারী থাকার জন্য মানুষ আবহমান কাল থেকেই শরীর চর্চা করে আসতেছে। 

একটি সুখী - সমৃদ্ধশালী সমাজ গড়তে কোনো বিশাল বাহু-তনু সহ মানুষের চেয়ে সুস্থ, সবল ও নিরোগদেহী মানুষেরই প্রয়োজন বেশি। আর নীরোগ দেহে সরল স্বাস্থ্যর অনেকে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করে। 

কেউ কেউ যোগ ব্যায়ামের চর্চা করেন। বর্তমান যুগে বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবাণু দ্বারা পরিবেষ্টিত আমাদের বসবাস। এদের থেকে বেঁচে থাকতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যায়ামের জুড়ি নেই। সৌন্দর্য চর্চার ক্ষেত্রে অনেক ব্যায়াম রয়েছে যা নিয়মিত করলে শরীর নিরোগ, সুঠাম ও সৌন্দর্য রক্ষার সহায়ক হয়।

 মোট কথা ব্যায়াম মানুষকে কর্মক্ষম রাখে এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়াম শরীর সুস্থ ও সবল রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্বোপরি বার্ধক্য থেকে দূরে রাখে। 

ব্যায়ামের প্রকারভেদ 

ব্যায়াম অনেক প্রকার। তবে এখানে সহজ ভাবে দুই ভাগে ভাগ করব। 
১. শরীর সুস্থ ও সবল রাখার জন্য ব্যায়াম। 
২. রোগ নিরাময়ে ব্যায়াম। 

শরীর সুস্থ ও সবল রাখার জন্য ব্যায়াম 

মানুষ নিজের শরীরের মাংসপেশির সবলতা ধরে রাখতে বা সবলতা বৃদ্ধি করার জন্য যে ব্যায়াম করে তাই হলো ফিটনেস ব্যায়াম। যেমন - দৌড়ানো, খালি হাতের ব্যায়াম, বিভিন্ন প্রকার আসন ইত্যাদি। তাছাড়া যারা খেলাধুলা করেন তাদের ও খেলার ফিটনেস ধরে রাখার জন্য নানাবিধ ফিটনেস ব্যায়াম করা দরকার। 

রোগ নিরাময়ে ব্যায়াম 

এমন অনেক ব্যায়াম আছে যা বিভিন্ন প্রকার রোগ নিরাময়ের সহায়তা করে। অথাৎ ব্যায়ামই ঔষধের মতো কাজ করে অথবা ঔষধের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। এজন্যই এই ধরনের ব্যায়ামকে থেরাপিউটিক এক্সরসাইজ বলা হয়। 

যেমন - ব্যাক এক্সটেনশন এক্সরসাইজ, কডম্যান এক্সরসাইজ ইত্যাদি। তবে এখানে এইরূপ কঠিন নামে ব্যায়াম গুলো আলোচনা না করে শুধু মাত্র ব্যায়াম গুলো উপস্থাপন করা হলো। এখানে সব খালি হাতের ব্যায়াম করলে ব্যথার রোগীরা উপকৃত হবেন।

 তবে সকল ব্যায়্যামই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে করা উঠিত। সকল প্রকার ব্যায়াম খোলা জায়গায় করা ভালো। যেখানে বাতাস চলাচল করে। এটা হয়তো গ্রামের মানুষদের পক্ষে সম্ভব। 

তবে শহরের মানুষরা বাড়ির ছাদের উপর করতে পারেন। মহিলারা হয়তো এই ভাবে ব্যায়াম করতে পারেন না। তাদূর জন্য পরামর্শ হলো তারা ঘরের মেঝেতে পাটি বিছিয়ে ব্যায়াম করবেন। তারা লক্ষ রাখবেন যাতে বাতাস চলাচলের কোন বিঘ্ন না ঘটে ঐ ঘরে। যে কোনো ধরনের ব্যায়ামেই শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। 

আর রক্ত চলাচলের সাথে অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তাও বেড়ে যায়। তাই বাতাসের অক্সিজেন যাতে পর্যাপ্ত গ্রহন করা যায় সেই দিকে রাখতে হবে। দরজা জানালা অবশ্য খোলা রাখবেন। 

ওজন নিয়ন্ত্রণ 

একজন মানুষ ওজন কমাতে ব্যায়াম অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। ওজন কমাতে অনেকেই অনেক কিছু করে থাকেন। এর মধ্যে সবচেয়ে দুইটা বেশি কার্যকরী নিয়মিত ব্যায়াম, ও খাবার নিয়ন্ত্রণ করা। খাবার নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ওজন সহজে কমবে না। 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ 

ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ উপায়। ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি। প্রতিদিন সকাল বিকাল হাঁটাহাটি করতে হবে। এতে ডায়াবেটিস ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট সকাল বিকাল হাঁটাচলা করা দরকার। 

পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম 

ঘুমের আগে আমাদের একটু ব্যায়াম করা উঠিত। ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরের ক্লান্তি আসে। এই ক্লান্তি আসার ফলে আমাদের ঘুম ভালো হয়। ভালোভাবে ঘুম হলে আমাদের শরীর মন দুইটা ভালো থাকে। 

মস্তিষ্ক সচল রাখা 

মস্তিষ্ক সচল রাখার জন্য ব্যায়াম একটি কার্যকরি উপায়। মস্তিষ্ক সচল রাখতে রক্ত সরবরাহ দরকার এই রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের শরীরের রক্ত প্রভাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। আর রক্ত প্রভাবহ স্বাভাবিক থাকে ব্যায়াম করলে। 

আরো পড়ুন :


1 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন