জীব বেঁচে থাকার জন্য যে দ্রব্য গ্রহন করে তাকে আমরা খাদ্য বলে থাকি।খাদ্য গ্রহন করার পর প্রাণীর দেহে খাদ্য প্রথমে খাদ্যনালিতে হজম হয় এবং অন্রের শোষিত হয় এবং জীবের কোষে প্রবেশ করে শক্তি সরবরাহ করে ও জীবন বজায় রাখতে বা জীবন বিকাশে উৎসাহিত করে। 

খাদ্য ও পুষ্টি
খাদ্য ও পুষ্টি 


খাদ্যে শর্করা (কার্বোহাইড্রেট), চর্বি (ফ্যাট), আমিষ (প্রোটিন), ভিটামিন, খনিজ এবং পানি জাতীয় ছয়টি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

খাদ্যের অধিকার মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICESCR) দ্বারা স্বীকৃত যে পর্যাপ্ত খাদ্য সহ মানসম্পন্ন জীবনযাত্রা এবং ক্ষুধামুক্ত জীবন মানুষের মৌলিক অধিকার

খাদ্য সাধারণত উদ্ভিদ বা প্রানী উৎস থেকে উৎপন্ন হয়। বেশিরভাগ খাবারই উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন হয়। শস্য হল একটি প্রধান খাদ্য যা অন্য যে কোনও ফসলের চেয়ে বিশ্ব জুড়ে খাদ্য শক্তি সরবরাহ করে। বিশ্বব্যাপী সমস্ত শস্য উৎপাদন শতকরা ৮৭ ভাগ হল চাল, গম, ও ভুট্টা 

উদ্ভিদ বা প্রানীর উৎস ব্যতীত কিছু খাবার বিভিন্ন ভোজ্য ছত্রাক বিশেষত মাশরুম থেকে উৎপন্ন হয়। 

উদ্ভিদ উৎস 

অনেক উদ্ভিদ এবং উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেমন - 
 বীজ :  উদ্ভিদের বীজ মানবদের জন্য খাদ্যের একটি ভালো উৎস। আসলে মানুষের দ্বারা খাওয়ার বেশিরভাগ খাদ্য বীজভিত্তীক খাবার। 

ভোজের বীজ সমূহ 
1. গম, চাল, ভুট্টা ইত্যাদি। 
2. সিম, মটরশুটি, মশুরের ডাল, ইত্যাদি। 
3. বাদাম, চিনাবাদাম, কাজু বাদাম, নারিকেল ইত্যাদি। 
4. তৈলবীজ তৈল উৎপাদন করতে ব্যবহৃত হয় সূর্যমুখী, ফ্লাক্সসিড, রাইসরিষা ইত্যাদি ।

ফল 

ফল হলো গাছের পাকা ডিম্বাশয় ও এর মধ্যসস্থিত বীজ। পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল রয়েছে, যা মানুষ খাদ্য হিসেবে খায়। যেমন আপেল, কমলা, আঙ্গুর, কলা ইত্যাদি ।

অঞ্চলভেদ বিভিন্ন রকমের ফল পাওয়া যায়। ফল বেশিরভাগ সংস্কৃতির লোকদের খাদ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। টমেটো, কুমড়ো, এবং বেগুন মতো কিছু বোটানিকাল ফল সব সবজি হিসাসে খায়। শাকসবজি সাধারণ খাবার হিসেবে মানুষ খাই।

  • সবুজ শাকসবজি - বা‍ধাকপি, পালং শাক, লেটুস ইত্যাদি
  • মূল শাকসবজি - গাজর, বিট, শালগম ইত্যাদি।
  • কন্দ - আলু, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি ।

  • অন্যান্য শাকসবজি - ফুলকপি, বেগুন, করলা ইত্যাদি।

প্রাণীর উৎস 

প্রাণী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাংস। প্রাণীর মাংস একটি আমিষ সমৃদ্ধ খাদ্য, যা নিরামিষভূজীরা বাদে সকলে খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে।
প্রাণীদের দ্বারা উৎপাদিত খাদ্য ও পণ্যগুলির  মধ্যে রয়েছে পনির, দুধ, মাখন, দুধ , ডিম ইত্যাদি।

 যদিও মানুষ সর্বভূক, তবু কিছু মানুষ স্বাস্থ্য নৈতিক বা আদর্শগত কারণে মাংস বা প্রাণীর খাদ্য বর্জন করে। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের শাকসবজির পাশাপাশি আমিষ খাওয়া দরকার আছে। 

পুষ্টি 

পুষ্টি উপাদান হলো এমন একটি পদার্থ যা মানুষ বেঁচে থাকা, বৃদ্ধি এবং পুনরুৎপাদনের জন্য গ্রহণ করে। প্রতিটি পুষ্টি উপাদানের শরীরে কিছু নির্দিষ্ট কার্য আছে। বয়স, লিঙ্গ, শরীরের গঠন, অসুস্থতা, আঘাত, গর্ভবস্থা এবং স্তনদানের মতো অনেক কারণের উপর নির্ভর করে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন হয়। 

খাবারের প্রায় ৫০ টি বিভিন্ন পুষ্টিদ্রব্য রয়েছে। বেশিরভাগ প্রাকৃতিক খাবারে একাধিক পুষ্টিদ্রব্য থাকে। যে সমস্ত পুষ্টিদ্রব্য অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে (গ্রাম বা আউন্স) শরীরের প্রয়োজন । এই গুলো হলো শর্করা, আমিষ, চর্বি এবং পানি।

 ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলি প্রাথমিক ভাবে শক্তি উৎপাদন বা টিস্যুতে মিশ্রিত হয়ে তার বৃদ্ধি এবং মেরামতের জন্য ব্যবহৃত হয়। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস (আঁশ এবং পানি বাদে) কাঠামোগত উপাদান যেমন অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে প্রোটিন তৈরি হয় এবং চর্বি থেকে কোষের ঝিল্লি এব্য কিছু সংকেত অনু তৈরি হয় এবং শক্তি সরবরাহ করে। 

প্রতি গ্রাম শর্করা এবং আমিষ ৪ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করে। সেখান প্রতি গ্রাম চর্বি ৯ কিলোক্যালরি সরবরাহ করে। ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং পানি শক্তি সরবরাহ করে না। শর্করা ও চর্বি অনুগুলি কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন পরমাণু দ্বারা গঠিত।

 প্রোটিনের অণুতে কার্বন, অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন ছাড়াও নাইট্রোজেন পরমাণু থাকে। প্রোটিনের মৌলিক উপাদান হল নাইট্রোজেন যুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড।

 বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি কমিটি (বিএনএনসি) নিম্নলিখিত অনুপাত 
কার্বোহাইড্রেট - ৫৫ - ৭৫%
প্রোটিন - ১০ - ১৫%
ফ্যাট - ১৫ - ৩০%

আরো পড়ুন : 





Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন