আমরা পৃথিবীতে বাতাসের চাপের মধ্যেই বেঁচে আছি। সেই সাথে মধ্যাকর্ষণ শক্তি বা টানে পৃথিবীর সাথে যুক্ত রয়েছি। নতুবা শূন্যে ভেসে যেতাম। কিন্তু মানসিক চাপের মধ্যে আছি। বলতে কি বুঝাই। আমরা আজ কাল কথায় কথায় বলি মানসিক চাপের মধ্যে আছি।

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির সহজ ৮ টি উপায়
মানসিক চাপ থেকে মুক্তির সহজ ৮ টি উপায় 


 টেনশনে আছি বা টেনশনে রয়েছি ইত্যাদি। শুধু তাই নয় আজকাল তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির ছাএ / ছাত্রীরা পর্যন্ত বলছে তারা পড়ার চাপে মধ্যে পরীক্ষা টেনশনে রয়েছে। আসলে বিষয়টি কী?

আমরা যখন ভীতি, হতাশা, নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা অথবা হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি নেতিবাচক চিন্তা করি তখন আমাদের শরীরে নেতিবাচক ভাইব্রেশন তৈরি হয়। ফলে নেতিবাচক অনুভূতি শরীর জুড়ে অনুভব হয়, মানসিক ভার (প্রসার) থেকে শারীরিক ভার / চাপ অনুভব হয়।

 তাই দেখা যায় মানুষ দুঃখ থেকে পাথরের মতো ভার ভার হয়ে যায়। শোকে, দুঃখে মুহ্যমান মানুষের ধযে তুলতে হয়। এ পরিস্থিতিতে বলে থাকি দুঃখ ও ভারাক্রান্ত অথাৎ 'ভরে আক্রান্ত'। আপনি যখন দুঃখ বা কষ্টের বিষয় চিন্তা করবেন তখনই ভারে আক্রান্ত হবেন। 

অর্থাৎ নেতিবাচক ভাবনা চেনতাকে প্রভাবিত করে এবং শরীরের হরমোনল সুইচ গুলো চালু করে দেয় ফলে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। আনন্দহীন, উচ্ছ্বাসহীন, ভীতি বা অনিশ্চয়তাময় অবস্থাটাই মনের উপর তথা শরীরের উপর চাপ বা স্ট্রেস। 

চিন্তা বস্তুর উপর প্রভাব বিস্তার করে। আপনার নেতিবাচক চিন্তা (যা একটি শক্তি) বস্তু শরীরকে প্রভাবিত করছে। প্রাকৃতিক বা বাহ্যিক কোনো চাপ বা প্রেসার নয় আপনারই নেতিবাচক চিন্তা থেকে সৃষ্টি হওয়া নেতিবাচক অনুভূতি শরীরের প্রতিটি সেল, টিস্যু, তথা শরীরটিকেই যেন ভারে আক্রান্ত করে ফেলছে।

 তখন আমাদের মনে উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা, আনন্দ প্রকাশিত হয় না। তখন ভালো ব্যবহার করতে ইচ্ছা হয় না বরং নিরাপত্তাহীনতা, শুন্যতা, শুষ্কতা জুড়ে বসে। এই শারীরিক প্রভাব এডোক্রাইন সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। যার ফলে ক্ষতিকারক বিভিন্ন স্ট্রেস হরমোন, নিঃসরণ ঘটে। 

যেমন - এন্ড্রেনালিন, নর - এন্ড্রেনালিন, ডোপামিন, কটিসল প্রভৃতি যা আমাদের শরীরের বায়োক্যামিক্যাল, মেটাবলিক পদ্ধতিতে হেস্তনেস্ত করে দেয়। আমাদের পরীরকে এসিডিক করে দেয়, আমাদের রক্তনালি কে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 রক্তের জমাট বাঁধে, রক্তনালীতে, ব্লকেজ সৃষ্টি হয়। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পেটের পীড়া, আলসার, ক্যানসার বিভিন্ন ক্রনিক রোগসমূহ সৃষ্টির পথগুলো প্রশস্ত হতে থাকে। মনের বিক্ষিপ্ততা শরীরের স্থিতিশীলতাকে বিপর্যপ্তা করে দেয়। শরীরের গঠন, গাঁথুনীকে নড়বড়ে করে ফেলে। 

মানসিক চাপ এতটাই যখন ধ্বংসাত্মক, বিপজ্জনক তখন আমরা এই চাপকে তৈরি করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছি না কেন, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কী, কী চাইছি আমরা অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, সুখ, শান্তি এবং সন্তুষ্টি। যদি তাই হয় তবে নিজের মধ্যে থাকতে হবে সততা, স্বচ্ছতা এবং পবিত্রতা এছাড়া শর্টকাট কোনো পথ নেই। 

সুতরাং এই সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা এবং এই গুলো অর্জনের সহজ পথেই হাঁটতে হবে। নীতি নৈতিকতা, মূল্যবোধকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। অসীম ছেড়ে পার্থিব সীমার মধ্যে লিপ্ত থেকে মানসিক চাপ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না।

 পার্থিব অর্থসম্পদ, ভোগ, সেনসেশন এ সবের আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই এবং তৃপ্তির শেষ নেই যার ফলে আকাঙ্ক্ষা ও ভোগের দিকে মানুষকে আরো আকর্ষিত করে তোলে যার পরিণতিতে মানসিক দ্বন্দ্ব এবং মানসিক চাপ। যখন আপনার চাহিদার সাথে যখন প্রাপ্তির মিল হয় না তখন মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে থাকে।

 কী পাননি সেটাই শুধু ভাবছেন কিন্তু কতকিছু পেয়েছেন সেটা তো ভাবছেন না। কী পাওয়া উচিৎ ছিল সেটা ভাবছেন, কী দেওয়া উচিৎ ছিল সেটা ভাবছেন। ধনী সে নয় যার কত আছে।

ঘোরাঘুরি করা 

আপনি যখন প্রচন্ড মানসিক চাপে বা দুশ্চিন্তা মধ্যে থাকবেন। তখন আপনার পছন্দের জায়গা ঘুরতে যাবেন। আপনার পছন্দের মানুষ গুলোর সাথে বসে সময় কাটাবেন। এতে আপনার মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা অনেকটা কমে যাবে। 

বই পড়া 

মানসিক চাপে থাকলে তখন বই পড়বেন। বই আমাদের সত্যিকারের বন্ধু। এতে আপনার সময় কাটবে দুশ্চিন্তা কমবে। আপনি চাইলে বই বা ডাইরিতে লিখতে পারেন। 

গান শোনা 

আমাদের মন খারাপ থাকলে সকলে কম বেশি গান শুনি। এত আমাদের মতো ভালো হয় দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাই। 

ঘুমানো 

ঘুম আমাদের শরীর ও মনকে সতেজ রাখে প্রতিদিন   ৬ - ৭ ঘন্টা ঘুমানো উচিত। এতে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়। মানসিক চাপ কমে যায়। রাতে তারাতারি ঘুমিয়ে গেলে শরীর ভালো থাকে। নানা রকম দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন। 

পুষ্টিকর খাবার 

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য। সঠিক সময় খাবার খাওয়া প্রয়োজন। পুষ্টিকর খাবার খেলে সু-স্বাস্থ্য বাজায় থাকে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

ব্যায়াম করা 

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির পাওয়ার জন্য ব্যায়াম করা অন্তত্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের কার্য ক্ষমতা বেড়ে। যায় এতে আমাদের দুশ্চিন্তা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়। প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করুন। শরীর ভালো থাকার পাশাপাশি দুশ্চিন্তা কমবে। আপনি চাইলে যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। ব্যায়াম করার উপকারিতা 

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন 

নিজেকে কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত রাখুন। এতে করে আপনার সময় ও একাকীত্ব কাটবেন। এই সময় আপনার পছন্দের কাজ গুলো করে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। পরিবারের মানুদের সময় দিন। 

প্রাণ খুলে হাসুন 

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য প্রান খুলে হাসা একটি কার্যকরি উপায়। এতে আপনার মানসিক চাপ অনেকটা কমে আসবে। আপনি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন, হাসির সিনেমা দেখুন, গল্পের বই পড়ুন। এত ফলে আপনার মানসিক চাপ কমে যাবে।  

আরো পড়ুন :

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন